ফেনীর ইতিহাস
ফেনী ও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং অগ্রযাত্রা
বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণ-পূর্বের এক আলো–ঝলমলে ছোট জেলা হলো ফেনী। আয়তনে ছোট হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ফেনী এক বিশেষ পরিচিতি বহন করে। একদিকে সবুজ প্রকৃতি, অন্যদিকে নদী–নালা ও মানুষের আন্তরিকতা—এ যেন বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।
ফেনীর জন্মকথা
অনেকের ধারণা, ‘ফেনী’ নামটি এসেছে ফেনী নদীর জলধারার ফেনা থেকে। নদীর প্রবাহ এতটাই তীব্র ছিল যে পানির ঢেউয়ে ফেনা তৈরি হতো। সেই ফেনার বৈশিষ্ট্যই নাম হয়ে গেছে জেলার পরিচয়। পরে ধীরে ধীরে জনবসতি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং ফেনী একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ফেনী
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফেনীর মানুষ অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। এখানে গঠিত হয়েছিল বেশ কয়েকটি মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প, টাকারপুল ও বিলোনিয়া ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ রুট। বহু বীর এই অঞ্চলে যুদ্ধ করেছেন, কেউ কেউ দেশের জন্য জীবনও দিয়েছেন। ফেনীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাংলাদেশের গৌরবগাঁথারই অংশ।
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ফেনী
ফেনী সরকারি কলেজ, ফেনী পলিটেকনিক, নূরুল হক বিদ্যাপীঠ, ফেনী ছাগলনাইয়া ষাটনলসহ অগণিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের শিক্ষা অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশ–বিদেশে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
অর্থনীতি ও উন্নয়ন
ফেনীতে কৃষি, ব্যবসা, পরিবহন এবং সার্ভিস–সেক্টর শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। মহাসড়কের পাশে হওয়ার কারণে এটি ঢাকা–চট্টগ্রাম যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র। বিলোনিয়া স্থলবন্দর ভবিষ্যতে অঞ্চলটির অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বাংলাদেশের পরিচয়
ফেনীর গল্প বলতে গেলে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া যায় না। কারণ ফেনীর মানুষ, জীবন, ইতিহাস ও সংস্কৃতি পুরোপুরি বাংলাদেশের বৃহৎ ঐতিহ্যের সাথেই সংযুক্ত। লাল–সবুজ পতাকার নিচে দেশের প্রতিটি জেলাই নিজেদের মতো সুন্দর, কিন্তু ফেনী তার সরলতা ও উষ্ণতায় বিশেষভাবে পরিচিত।
ফেনী—আগামীর সম্ভাবনা
উন্নত সড়কপথ, শিক্ষা–প্রতিষ্ঠানের বিস্তার, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে ফেনী দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম নতুন কিছু করতে আগ্রহী, এবং ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় ফেনী ইতিমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
ফেনী শুধু একটি জেলা নয়—এটি বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।